বাংলাদেশের উন্নয়নে ‘বিশ্বস্ত অংশীদার’ থাকবে যুক্তরাষ্ট্র: রাষ্ট্রদূত পিটার হাস



বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেছেন, তার দেশ ভবিষ্যত উন্নয়নের পথে বাংলাদেশের ‘বিশ্বস্ত অংশীদার’ থাকবে।

মঙ্গলবার (৩১ মে) রাষ্ট্রদূত হাস জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ এ তার বক্তব্যে এ কথা বলেন।

ডিক্যাব সভাপতি রেজাউল করিম লোটাস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক একেএম মঈনুদ্দিন।

ওয়াশিংটন গিয়ে তিনটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আগামী ৫০ বছরেও বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবিচল অংশীদার থাকা; যেমনটি গত ৫০ বছর ধরে রয়েছে।”

রাষ্ট্রদূত হাস তিনমাস ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে আসার পর, তিনি প্রথম ওয়াশিংটন যাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমি এই দেশে এ পর্যন্ত আমার অভিজ্ঞতা এবং পর্যবেক্ষণ নিয়ে আলোচনা করার জন্য, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনেক কর্মকর্তা, কংগ্রেস কর্মী, এনজিও এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা করছি।”

রাষ্ট্রদূত হাস জানান “গত ৫০ বছরে, যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে, বাংলাদেশের ভালো বন্ধু আর কেউ ছিল না। আগামী ৫০ বছরেও এর চেয়ে আর কোন ভালো বন্ধু হবে না।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সাফল্য এবং চ্যালেঞ্জ দুটোই বাস্তব।”

রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, “বাংলাদেশ শিগগিরই স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ হবে এবং দেশটি ক্রমাগত মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অর্জনগুলো বাস্তব এবং সত্যিই অসাধারণ।”

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেন, “দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং বৃহৎ প্লাবনভূমিসহ অবস্থানগত কারণে, বদ্বীপ রাষ্ট্র বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।”

তিনি বলেন, “যখন গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের কথা আসে, তখন যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্বেগ প্রকাশ্যে এবং ব্যক্তিগতভাবে উত্থাপন করে।”

পিটার হাস উল্লেখ করেন, তারা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বিশেষ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, এমন বেশ কয়েকটি খসড়া আইন ও প্রবিধান নিয়ে উদ্বিগ্ন।

রাষ্ট্রদূত হাস আরও জানান, তারা বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং জোরপূর্বক গুমসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বিগ্ন।

২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবসে, যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন এবং এর কিছু কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশে অপর্যাপ্ত শ্রম অধিকার এবং কাজের পরিবেশের নিম্নমান নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এই উদ্বেগগুলো, দুর্ভাগ্যবশত জিএসপি সুবিধা ও ইউএস ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং দারিদ্র্য হ্রাসে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা আরও দৃঢ় করে গড়ে তুলতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র।”

এছাড়াও, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যাগুলো মোকাবেলা করার জন্য নতুন এবং উদ্ভাবনী পন্থা চিহ্নিত করা, গণতন্ত্রের প্রচার এবং চিত্তাকর্ষক অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতেও একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস।



Source link

maria

এই যে, এই প্রবন্ধ পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ. আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার, 10 বছর ধরে লিখছি, এবং একজন প্রযুক্তি প্রেমী।